সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নেতাকর্মীদের স্বভাব-চরিত্র পরিবর্তণ হলে স্থানীয় নির্বাচনেও দেশের জনগন ভোটের মাধ্যমে জবাব দিবে- প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ঈদের আগেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড পাবো: রাজৈরে মতবিনিময় সভায়  জাহান্দার আলী মিয়া এমপি  মুকসুদপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ড্রেজার মেশিন ধ্বংস মাদারীপুরে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু, অভিযুক্ত স্বামী আটক মুকসুদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্র নিহত মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত-১,আহত-১০ মুকসুদপুরে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মোবাইল কোর্ট ১৯ মাস পর মুকসুদপুর  উপজেলা আ. লীগ কার্যালয়ে উড়ল  পতাকা মাদারীপুরে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়ালো দুইপক্ষ, শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ, আহত ২ মুকসুদপুরে নিখোঁজের ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি দুই কিশোরী

রাজৈরে মোবাইল বন্ধক ছাড়ানোর দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাত, ৪২ দিন পর ইজিবাইক চালকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৪

টেকেরহাট নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭৪ Time View
মাদারীপুরে ৩ হাজার টাকায় মোবাইল ফোন বন্ধক ছাড়ানো নিয়ে দ্বন্দ্বে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আহত ইজিবাইক চালক সোহান মিয়া (১৮) মারা গেছে। একই সাথে ছুরিকাহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে আমিন (২০) নামে আরও এক যুবক। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাদ মাগরিব জানাজা নামাজ শেষে তার নিজ গ্রামের বাড়ি জেলার রাজৈর উপজেলার বৌলগ্রাম এলাকায় দাফন করা হয়েছে। সে একই এলাকার মৃত ইয়াদ আলী মিয়ার ছেলে। এর আগে গত ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে সোহান ও আমিনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘাতকরা হলো, রাজৈর উপজেলার স্লুইসগেট এলাকার মো. লাল মিয়ার ছেলে রতন (১৮), তার খালাতো ভাই সাজ্জাদ (১৮), কানাইপুর গ্রামের আকা মিয়া ও তার ছেলে রিয়াজ মিয়া। রতন দীর্ঘদিন যাবত তার মামা বাড়ি কানাইপুরে বসবাস করে আসছে।পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার বৌলগ্রাম এলাকার ভাড়াটিয়া আলমের ছেলে আমিনের সাথে ইজিবাইক চালানোর সুবাদে নিহত সোহানের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাস আগে পরিচিতির সম্পর্ক ধরে পাশ্ববর্তী কানাইপুরের রেজাউল বাওয়ালীর ভাগিনা রতনের (১৮) কাছে ২ হাজার টাকায় একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন বন্ধক রাখে আমিন। পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গত ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর টাকা জোগাড় করে রতনের কাছে আমিন তার মোবাইলটি ফেরত আনতে যায়। এসময় তাকে কানাইপুর গ্রামে আকা মিয়ার কাছে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে পাওনা ২ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিয়ে মোবাইল ফেরত চাইলে আরও এক হাজার টাকা দাবি করেন আকা মিয়া। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে রতনকে ফোন দেয় আকা মিয়া। একপর্যায়ে দাবিকৃত অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় রতন ও তার খালাতো ভাই সাজ্জাদ লোকজন নিয়ে এসে আমিনের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে যায় সোহান। এসময় আমিন ও সোহানকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রতন ও তার লোকজন পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদেরকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানেই দীর্ঘ ৪২ দিন চিকিৎসা সেবা শেষে রবিবার সন্ধ্যায় মারা যায় সোহান। সোমবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি বৌলগ্রাম এলাকায় এনে দাফন করা হয়। আহত আমিন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা মেহেরীন (৪২) বাদি হয়ে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলার এজাহার নামীয় আসামি শেফালী বেগম (৪৮) সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, ঘাতক রতন একজন মাদক সেবক ও ব্যবসায়ী। সে তার নিজ বাড়িতে না থেকে মামা বাড়ি এলাকায় বসবাস করে। এছাড়া আহত আমিনের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়।

নিহত সোহানের মা মেহেরীন বলেন, আমার ছেলে মারামারির কথা শুনে দেখতে গিয়েছিল। ওর সাথে কোন ঝামেলা ছিল না। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখতে চাই।

রাজৈরের খালিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিক মোল্লা বলেন, আমরা গ্রামবাসি মিলে কিছুদিন আগে মাদক বিরোধী আন্দোলন করে সকল মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়া করেছি। এখন তারা অন্য এলাকা বসবাস শুরু করছে। সোহান খুব ভাল ছেলে ছিল। সে ইজিবাইক চালাতো। তাকে বিনাদোষে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ও তাদের পরিবারের লোকজন পলাতক থাকায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে এই হত্যা মামলার একজন এজাহার নামীয় আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিদের না ধরা পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category