উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ব্যাবসায়ী তসির ফকির। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বিদেশ পাড়ি জমানোর নানা পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। অকালেই নিভে গেল তসির ফকিরের জীবন। তার মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিহত তসিরের স্ত্রী ইসমোতারা দালালের মাধ্যমে তার স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পায় ।
নিহত তসির ফকির (৩৫) রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামে কালু ফকিরের ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুধবার দুপুরে নিহত তসির ফকিরের বাড়িতে সরেজমিনে গেলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তসির ফকির। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় ছিলেন তিনি। দালালের প্রলোভনে অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি দেওয়ার সপ্ন দেখেন তসির ফকির। আর এই সুযোগে দালাল রফিক হাতিয়ে নেয় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ও ভিটামাটি সয়সম্বল হিন করেন তার পরিবারকে দীর্ঘদিন লিবিয়ায় বন্দীশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করায় অসুস্থ হয়ে পড়েন নিহত তসির ফকির জীবনের সব স্বপ্ন থামিয়ে দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি লিবয়ার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন । তসিরের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে কান্নার আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

নিহত তসিরের স্ত্রী ইসমোতারা জানান, পাশর্^বর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের দালাল রফিক বাঘা আমার স্বামীকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ার বন্দীশালায় আটকিয়ে ব্যাপক মারধর করে এবং ক্রমান্বয়ে ৪৫ লক্ষ টাকা আমার কাছ থেকে নেয় । এই টাকা আমি জায়গা জমি ও ধার দেনা করে দালালকে দেই । এর পরও আমার স্বামীকে বাচাতে পারলাম না । অবশেষে আমার স্বামীকে মেরেই ফেললো দালাল । আমি এই হত্যার বিচার চাই এবং আমার স্বামীর লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই এবং আমার তিন মেয়েকে নিয়ে কি ভাবে বাচবো সে দাবিও জানাই ।
পরিবার ও স্বজনরা জানান, তিনি চায়ের দোকান করে পরিবার চালাতেন। পরিবারে তার স্ত্রী ইসমত আরা বেগম ও নাসরিমা, সুমাইয়া,এবং ইরাফাত নামের তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। নিহত স্বজনদের দাবি,দ্রুত দালাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি ও নিহতের লাশটি বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান সরকারের কাছে।
স্থানীয়রা জানায়, বর্তমানে রাজৈর ও পাশর্^বর্তী এলাকার প্রায় প্রতি ঘরে ঘরেই ইতালি পাঠানোর দালাল তৈরি হয়েছে এবং তারাই খুব সহজেই ইতালি পাঠানোর প্রলভোন দেখিয়ে ক্রমান্বয়ে সর্বস্ব কেরে নেয় । কিন্ত তার পরও অনেকেই লাশ হয়ে ফিরে আসে বাড়ীতে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহফুজুল হক জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার চাইলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।
Leave a Reply