সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। আহত ১০জন মাদারীপুরে পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরণ, ঘর বিব্ধস্ত, তদন্তে পুলিশ রাজৈরে পানিতে পড়ে ৫ বছর বয়সী দুই জমজ বোনের মৃত্যু  মাদারীপুরে হাসপাতালের ভেতর যুবককে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত আটক মাদারীপুরের শিবচরে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, এক বছরের শিশুকে ফেলা দেয়া হয় নদীতে, প্রধান আসামি গ্রেফতার  রাজৈরে পুরুষদের বিরুদ্ধে এক নারীর একাধিক মিথ্যা মামলা, অতিষ্ঠ হয়ে ৩ পরিবার ভারতে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর মহিলা কলেজের অফিস সহকারী ইয়াবাসেবনকালে গণধোলাইয়ের শিকার, ভিডিও ভাইরাল গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩, আহত ২০ মুকসুদপুরে কুমার নদীতে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার মাদারীপুরের শিবচরে পানিতে ডুবে দুই কিশোরীর মৃত্যু, আহত এক

মাদারীপুরে ঈদ আর গ্রীষ্মের ছুটিতে ৭দিন পাঠদান করতে চিঠি দিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সমলোচনার মুখে প্রত্যাহার

টেকেরহাট নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ২২২ Time View
সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদ উল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ১৪ দিন ছুটি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মাদারীপুরে ঘটলো ভিন্ন চিত্র। ১৪দিনের পরিবর্তে ৭দিন ছুটি কাটানোর জন্য চিঠি দেয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বাকি ৭দিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। এ নিয়ে শুরু হয় জেলাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক। যদিও সমলোচনার মুখে চিঠি প্রত্যাহার করে পাল্টা নোটিশ দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২৪ মে থেকে ৪ জুন পবিত্র ঈদ উল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এরপর আরো দুইদিন শুক্র ও শনিবারের ছুটিসহ মোট ১৪দিনের ছুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককের ভোগ করার কথা। কিন্তু ছুটি ভোগ করার আগেই গত ১৪ মে মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেন। সেখানে বলা হয় ১৪দিনের সরকারি ছুটির পরিবর্তে বিদ্যালয় খোলা রেখে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ৭দিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিতে হবে। বিদ্যালয়সহ দুর্বল শিক্ষার্থীদের তালিকা রিপোর্ট আকারে তৈরি করে ১৮ মে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাতে হবে। চিঠি পাওয়ার পরপরই পুরো জেলাজুড়ে শুরু হয় বির্তক। ফেসবুকেও ওঠে সঙ্গে সমলোচনা ঝড়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রোশের সামিল হিসেবে দেখেন। পরে সমলোচনার মুখে গত ১৫ মে শুক্রবার বন্ধের দিনে আরেকটি চিটি করেন ওই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। সেখানে পূর্বের চিঠি বাতিল করা হয়। বিষয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে চর অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে অনেক বানান ভুল। যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল মনে করছেন সুধিজনরা। দায়িত্বহীনতার কারনে ঘটেছে এমন ঘটনা। এছাড়া  জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে ইলাহী এভাবে শিক্ষকদের সরকারি ছুটি ভোগ করতে বাধা প্রদান করতে পারেন না। এটি একটি অন্যায় এবং গুরতর অপরাধের মধ্যে পড়ে।
নাম না প্রকাশে একাধিক সহকারি শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এভাবে চিঠি দিয়ে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে বলতে পারেন না। যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ছুটিতে থাকবে, সেখানে এমন চিঠি দিয়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা এটা মেনে নেয়া যায় না।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় পাঠদান নিতে বলা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হওয়ায় চিঠির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। মূলত শিক্ষা অধিদফতর থেকে দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান নিতে বলা হয়েছিল। এর পরপরই চিঠি দেয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। কিন্তু শিক্ষকরা এই আদেশ মেনে নিতে পারবে না, সেটি বুঝতে পারিনি। তাহলে এভাবে চিঠি করতাম না।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘১৪দিনের পরিবর্তে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছুটি ৭দিন ভোগ করার চিঠির বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। এরপর আরো একটি চিঠি দিয়ে পূর্বের চিঠি বাতিল করে জেলা অফিস। কেন এমন ঘটনা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category