লিবিয়ায় যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ চেয়ে নির্যাতনের ভিডিও পাঠায় দালালচক্র। আর সেই ভিডিও দেখে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় যুবকের মা-বাবা। পরিবার থেকে মাফিয়াদের কয়েক দফা ৮৫ লাখ টাকা দেয়া হলেও এক সপ্তাহ ধরে খোঁজ নেই মাদারীপুরের রফিকুল ইসলাম রাব্বির। যুবকের সন্ধানে মঙ্গলবার দুপুরে দালালের বাড়ি ঘেরাও করেছে পরিবার। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবী করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন মাদারীপুরের মধ্য খাগদী এলাকার যুবক রফিকুল ইসলাম রাব্বি। পরে তাকে লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায় মাফিয়ারা। নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় পরিবারের কাছে। সেই ভিডিও দেখে দেড় বছর আগে বাবা জলিল বেপারী ও ৬ মাস আগে মারা যায় মা মেহেরুন নেছা। এরপরও থেমে নেই দালালচক্র। পরিবার থেকে কয়েক দফায় আদায় করে মুক্তিপনের ৮৫ লাখ টাকা। তারপরও রাব্বির মুক্তি মিলছে না। এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ সে।
স্বজনদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের তালতলা এলাকার আয়ুব আলী মাতুব্বরের ছেলে রিয়াজুল মাতুব্বর ও রিয়াজুলের শ্বশুর মধ্য খাগদী এলাকার জামাল ফকির এবং শ্বাশুড়ি রোমানা বেগমের সাথে চুক্তি করে রাব্বির পরিবার। পরে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে রাব্বিকে লিবিয়া আটকে নির্যাতন চালিয়ে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রাব্বি। তার সন্ধান পেতে মঙ্গলবার দুপুরে দালালের বাড়ি ঘেরাও করে স্বজনরা। সেখানে গিয়ে কোন উত্তরই মিলছে না নানান প্রশ্নের।
তথ্য বলছে, তিনভাই একবোনের মধ্যে রাব্বি সবার ছোট। ভিটেমাটি বিক্রি ও চড়া সুদে লাখ লাখ টাকা দিয়ে দিশেহারা যুবকের পরিবার। একদিকে পাওনাদারদের টাকা ফেরতের চাপ, অন্যদিকে যুবক নিখোঁজ থাকায় চরম দুঃচিন্তায় স্বজনরা।
এলাকাবাসী জানায়, দালাল রিয়াজুল বেশকিছুদিন ধরে ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় যুবকদের আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেই টাকা দিয়ে এলাকায় ও শ্বশুরবাড়ি ভবনও নির্মাণ করেছে। এই ঘটনায় কঠিন বিচার চান তারা।
রাব্বির বড়ভোই তানজিলা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইকে জিম্মি করে মোট ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনায় আমরা দালালচক্রের বিচার চাই, আর আমার ভাইকে দ্রুত ফেরতও চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর বেপারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রিয়াজুল বিদেশে লোক নেয়ার কথা বলে প্রতারণা করে আসছে। এই চক্রের সাথে সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অন্যায় কাজ আর করতে না পারে।’
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রোমানা বেগম। তিনি বলেন, রফিকুল ইসলাম রাব্বি কবে, কার মাধ্যমে কোথায় গিয়েছে তিনি কিছুই জানেন না। টাকা লেনদেনের বিষয়টিও তিনি অবগত নন। আর তার জামাই রিয়াজুল মাতুব্বর ইতালি থাকেন। স্বামী কালকিনি উপজেলায় কাজে গেছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘এ ব্যাপারে নিখোঁজ যুবকের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া এমন খবর পেয়ে পুলিশ বিভাগের সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যাছাইবাছাই চলছে।’
Leave a Reply