ফরিদপুরে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহাজারিতে ভাড়ী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। রোববার বিকেল চারটার দিকে নিহতদের লাশ গ্রামেরবাড়ি পৌঁছালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজন ও এলাকাবাসী। আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়া লাশ নামানো হয় বাড়ির সামনে মসজিদ মাঠে। প্রিয়জনের লাশ একনজর দেখতে ভীড় করেন পাড়াপ্রতিবেশি, পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।
জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের হাজী মোহাম্মদ ওয়াহেদ মোল্লার মেজছেলে আলমগীর মোল্লা দুইমাস আগে প্যারালাইজড-এ আক্রান্ত হলে চিকিৎসা শেষে বাড়ি আনা হয় তাকে। রোববার সকালে আলমগীর অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তার দেখানোর জন্য প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন পরিবারের ৪ সদস্য। পথিমধ্যে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী বিআরটিসি পরিবহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আলমগীর মোল্লা (৫৫), তার স্ত্রী খুশি বেগম (৩৬), বড়ভাই জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬৫) ও ভাবি বেলী বেগমসহ (৪০) অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওসার মাতুব্বর।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে মাতম। দোষি বিআরটিসি যাত্রীবাহী বাসের চালকের কঠোর বিচার চান স্বজনরা। পাশাপাশি ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কটি চারলেনে উন্নতিকরনের দাবী এলাকাবাসীর।
নিহতদের বিয়াই ফায়েক মুন্সি বলেন, এমন দুর্ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিআরটিসি বাসের চালকের বিচার হওয়া উচিত। আর ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক অন্তত ফোরলেনে উন্নীতকরণ করা হলে এই সড়কে দুর্ঘটনা কম যাবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, একসঙ্গে একই পরিবারসহ পাঁচজনের মৃত্যু এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে উপজেলা প্রশাসন।
Leave a Reply