মাদারীপুরের রাজৈরে সাড়ে তিনবছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশি যুবকের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে নির্যাতিতা মেয়েটিকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানার প্রচন্ড যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে সাড়ে তিন বছরের শিশু। অথচ, বাড়ির উঠানে খেলা করার কথা ছিল তার। নির্মম নির্যাতনের শিকার মেয়েটির পরিবারও এখন অসহায়। বুকফাটা আর্তনাতে কাতর মা-বাবা।
স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার দুপুরে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারি গ্রামের পলাশ সরকারের ছেলে চন্দন সরকার মেয়েটিকে তার ঘরে ডেকে নেয়। বাড়িতে কেউ না থাকলে ইচ্ছার বিরুদ্ধ শিশুকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি নির্যাতিতার মা টের পেলে ঘরের দরজা খুলে পালিয়ে যায় চন্দন। পরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিয়া আসা থানায়। পুলিশের পরামর্শে রোববার দুপুরে নির্যাতিতাকে মেয়েটিকে ভর্তি করা হয় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে সেখান থেকে গিয়ে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয় ওই শিশু। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মামলা হলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি আসামি।
মেয়েটির বাবা বলেন, ‘কৌশলে চন্দন তার ঘরে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে ধর্ষণ করে। এই কর্মকান্ড কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। এই ঘটনার কঠিন বিচার দাবী করছি।’
কয়েকজন প্রতিবেশি জানায়, ‘ঘটনার পর চন্দন ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়েছে। সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ধর্ষনের অভিযোগ নিয়ে এক শিশুকে তার পরিবার হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে প্রাথমিক চিসিৎসা দিয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিকেল টিম গঠনের পর রিপোর্ট প্রদান করা হবে।’
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘এই ঘটনায় রাজৈর থানায় মামলা করেছে মেয়েটির পরিবার। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply