শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশকে আর কোন আধিপত্য শক্তির আওতায় আসতে দিবে না জনগণ- মাদারীপুরে এনসিপি’র আহবায়ক নাহিদ ইসলাম মাদারীপুরে বিচারকের বাসভবনের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে: সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া মাদারীপুরে মাদক বিক্রির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪ গোপালগঞ্জে ৩ কর্মকর্তা- কর্মচারীর সিন্ডিকেটে জিম্মি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস: সীমাহীন ভোগান্তি সারাবিশ্বের ৭০ ভাগ ইলিশ বাংলাদেশ উৎপাদন করে, দেশের সম্পদ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় মা ইলিশ ধরা যাবে না- মৎস ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাদারীপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে সৌদি ফেরত প্রবাসীর ঘরে আগুন দিলো প্রতিপক্ষ চীনের অর্থায়নে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়িয়াল খঁ নদে নির্মিত হচ্ছে সেতু গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৩ গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১৫ মাদারীপুরের কালকিনিতে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তের বসতবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মুকসুদপুরে ভাইরাস (পোকা) বিক্রি করে চলে যাদের সংসার

টেকেরহাট নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৩৪ Time View

গোপালগঞ্জে মুকসুদপুরে রেইনট্রি গাছের ভাইরাস পোকা বিক্রি করে চলছে শত শত পরিবারে সংসার। এ ভাইরাস বিক্রি লাভবান হওয়ায় নিজ পেশা ছেড়ে ভাইরাস পোকা বিক্রি পেশায় যুক্ত হচ্ছেন অনেকে।
উপজেলার ভারড়াশুর, মোচনা,পশারগাতী ইউনিয়নে এই রেইনট্রি গাছের ভাইরাস পোকার সংগ্রহ চলছে। আবার অনেকে রাস্তার পাশে গাছের বাগান ক্রয় করে রেখেছেন ভাইরাস সংগ্রহের জন্য। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই ভাইরাস পোকা সংগ্রহের কাজ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাবড়াশুর ইউনিয়নের কয়েকজন যুবক ইঞ্জিন চালিত ভ্যানগাড়ী সাথে নিয়ে উজানী থেকে আসা রাজন মিয়া রেইনট্রি গাছের ভাইরাস পোকার ডাল সংগ্রহ করে বাড়ী ফিরছে। এ পেশার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন উজানী ভাবড়াশুর মোচনা ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক যুবক। প্রথমে বাড়ী থেকে বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম গুলোতো গিয়ে রেইনট্রি কাছের সাদা বর্ণের ভেতর লালচে রঙের ভাইরাসযুক্ত ডালের সন্ধান করেন। পরে যে গাছের ডালগুলোতে সংক্রমিত বেশী, সেই ডাল গুলো দর-দামের মাধ্যমে গাছের মালিকের সাথে দাম ঠিক করে নেয়া হয়। পরে গাছ থেকে ডাল কেটে নারী শ্রমিকদের দিয়ে ভাইরাস ছাড়ানো হয়। ভাইরাস বিক্রির উপযোগী হলে বস্তায় করে স্থানীয় উপজেলা কলিগ্রাম ও গোপালগঞ্জ সদরে সহ কয়েকটি বাজারের আড়তে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করে। ভাইরাস বিক্রির ব্যবসার সাথে জড়িত হাসান, কামালের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, উপজেলা বিভিন্ন গ্রাম থেকে শিশু (রেইনট্রি) গাছ দেখে আসি। যেসব গাছে ভাইরাস হয়েছে সেগুলো থেকে তিন থেকে চার জন শ্রমিক নিয়ে সংক্রমিত ডাল কেটে ভ্যানে করে বাড়িতে এনে ভাইরাস ছাড়িয়ে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাই। কয়েক বছর আগে এই ভাইরাসের দাম বেশি ছিলো। কিন্তু এখন দাম কমে গেছে। ভাইরাস ক্রয়ের আড়ৎদার গোপালগঞ্জ সদরের সোহেল শেখ মুঠোফোনে জানান, গাছ থেকে সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনে আমরা অন্য জায়গায় বিক্রি করি। এগুলো ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতিকেজি দরে কিনে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করি। এই ভাইরাস কী কাজে ব্যবহার হয় এমন প্রশ্নে আড়ৎদার সোহেল শেখ জানায়, আমরাও সঠিক জানি না। তবে লোকমুখে শুনেছি এটা দিয়ে আসবাবপত্রে রং করার কাজে উন্নতমানের আঠা বা গালা তৈরি করা হয়ে থাকে। ভাবড়াশুর গ্রামের সেন্টু মৃধাসহ গ্রামের কয়েকজন জানান, দিন দিন এই ভাইরাস সংগ্রহের কাজে লোক ঝুঁকছে বেশি। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে-গোটা উপজেলার শতশত নারী, পুরুষ এই পেশায় জড়িত হয়ে পড়েছে। বেকার যুবকরাও এ ভাইরাসের ব্যবসা শুরু করেছে। উপজেলার গায়েন্দা বাজারে অস্থায়ী একটি দোকান ভাড়া করে কয়েক জন পুরুষ ছুরির সাহায্যে ডাল থেকে ভাইরাস পোকা আলাদা করছে। তারা বলেন-এইগুলো আলাদা করে পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। এভাবে এক সপ্তাহ পর পর বিক্রি করে থাকি। প্রথমে এই ভাইরাস পোকার দাম ছিল ১০০০ টাকা কেজি। এখন দাম কমে গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ বাহাউদ্দীন সেক সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, মানুষেরা যেটিকে ভাইরাস বলছে সেটি মূলত ভাইরাস নয় এটি হলো গাছের লাক্ষা পোকা এটি বিভিন্ন গাছে হয়ে থাকে বর্তমানে রেইনট্রি গাছে বেশি দেখা যায়, এটি গাছ থেকে ছাড়িয়ে অনেকে বিক্রি করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category