মাদারীপুরের রাজৈরে ব্যবসায়ী জাকির শেখের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী । বৃহষ্পতিবার বিকাল ৪ টায় রাজৈর বাসষ্টান্ডে এ কর্মসূচী পালিত হয়। মহাসড়ক অবরোধের কারনে উভয়পাশে দীর্ঘ যানজনের সৃষ্টি হয়। পরে রাজৈর থানা পুলিশ এসে অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। জাকির শেখ হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে রাজৈর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার ১ নং আসামী ইলিয়াস খানসহ ৪ জনকে বুধবার রাতে গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮

oppo_2
উল্লেখ্য,মাদারীপুরের রাজৈরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে জাকির শেখ (৫০) নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে জামাইবাড়ীতে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আমগ্রাম গোলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে মজুমদারকান্দি গ্রামের নুরুজ্জামান শেখের ছেলে। এসময় উত্তেজিত জনতা ছয়টি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাকির শেখের জামাই আমগ্রাম গোলপাড়া এলাকার রাসেল কাজী (পিতা: এসাহাক কাজী) ও তার ভাই সোহেল কাজীর সঙ্গে প্রতিবেশী মজিদ খার ছেলে ইলিয়াস খাঁ ও আলামিন খাঁ গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে আসেন রাসেল কাজীর শ্বশুর নুরুজ্জামানের ছেলে জাকির শেখ (৫৫)। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজৈর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জাকির শেখ মাদারীপুর জেলার রাজৈর পৌরসভার মজুমদারকান্দি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি রাজৈর বাসস্ট্যান্ডে ফলের ব্যবসা করতেন।
এদিকে সংঘর্ষে সোহেল কাজী (৩৫) গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মজিদ খার বাড়িসহ ইলিয়াস খাঁ ও আলামিন খাঁদের ছয়টি বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রাজৈর থানার তদন্ত কর্মকর্তা কুতুবউদ্দিন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার চেষ্টা চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
Leave a Reply