খবর নেই পৌরসভা নির্বাচনের। হয়নি তফসিল ঘোষণাও। অথচ, মাদারীপুরে এক ডজনেরও বেশি সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর ব্যানার আর পোস্টারের ছড়াছড়ি। শহরের অলিগলিতে ছেঁয়ে গেছে পরিচিতি হওয়ার রঙ্গিন বিজ্ঞাপন। এমন-কি গাছে গাছে পেরেকবিদ্ধও করা হয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় ক্ষুব্ধ সুধিজনেরা। অবশ্য, শিগগিরই আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে গাছে গাছে ঝুলছে ব্যানার আর ফ্যাস্টুন। অথচ, এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা। বিষয়টি চোখে পড়লেও এড়িয়ে গেছেন তিনি। একই চিত্র শহরের অধিকাংশ সবুজ গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, এমনকি সরকারি-বেসরকারি ভবনের দেয়ালে। সবখানেই ঝুলছে অসংখ্য ব্যানার, ফ্যাস্টুন আর সাইনবোর্ড। মাদারীপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারনার প্রতিযোগিতায় মেতেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এতে সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে শহরের। প্রশাসনের নিরব ভুমিকায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কোনটিতেই রঙ্গিন পোস্টার বা ব্যানারে প্রচার-প্রচারনার কোন বিধি নেই। নির্বাচনের কোন খবর না থাকলেও নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে এমন কর্মকান্ডে করছেন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি। শহরের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠনের নেতাদের।
আবু নাঈম নামে এক পথচারী বলেন, ‘সুন্দর একটি শহর এভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে নষ্ট করছে। দেখতে খুবই খারাপ লাগছে। এমন কর্মকান্ড যারা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।’
ফারদিন আহম্মেদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শহরের চারপাশেই বিভিন্ন নেতাদের রঙ্গিন ব্যানার আর সাইনবোর্ড। যা দেখতে খুবই বিরক্তকর। এটি অপসারণ হলে শহরটির পরিবেশ আগের মতন ফিরে আসবে।’
মাদারীপুরের পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচার-এর নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, যেদিকে দুচোখ যায়, সেদিকে শুধু ব্যানার আর পোস্টার। এ যেন এক বিজ্ঞাপনের শহর। এগুলো অপসারনে প্রশাসন আদৌ কি ব্যবস্থা নিবে, এমন প্রশ্ন থেকেই যায়।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিজ উদ্যোগে এগুলো সরিয়ে না নিলে শিগগিরই আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এরইমধ্যে এ ব্যাপারে মাদারীপুর পৌরসভাকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
Leave a Reply