এর আগে সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে স্বামীর বাড়ির পাশে চিকন একটা আমগাছের সাথে হাটুগারা ঝুলন্ত অবস্থায় মাহফুজার মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত স্বামী তৌহিদ।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহফুজা রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দূর্গাবর্দি গ্রামের তোফেল বেপারীর মেয়ে এবং অভিযুক্ত তৌহিদ একই উপজেলার মজুমদারকান্দি খালপাড় গ্রামের সোবাহান বেপারীর ছেলে। লেবার-শ্রমিকের কাজ করেন তৌহিদ। মেয়েকে সুখে রাখার জন্য তাদের বিয়ের সময় জমি বিক্রি করে তৌহিদকে টাকা দেয় শশুর বাড়ির লোকজন। কিন্তু কয়েক বছর পার না হতেই পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। সমাধানের জন্য আবারও টাকা দেয় মাহফুজার ভাই। তবে রোববার রাতে তৌহিদের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায় মাহফুজা । এসময় ক্ষুব্ধ হয়ে খুঁজতে বের হয় এবং হত্যার হুমকি দেয় তৌহিদ। পরে সোমবার ভোরে গলায় ওড়না পেঁচানো পায়ের হাটু গেরে বসা একটি আম গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। এরপর খবর পেয়ে তার বাবার বাড়ির লোকজন এসে রাজৈর থানায় জানালে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এর আগেই অভিযুক্ত তৌহিদসহ বাড়ি থেকে পরিবারের সকলে পালিয়ে যায়। তাদের সংসারে তিন শিশু কন্যা রয়েছে।
নিহত মাহফুজার ভাই সোবাহান বেপারী অভিযোগ করে বলেন, তৌহিদের সাথে এক মহিলার সম্পর্ক আছে। এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই আমার বোনকে মারধর করতো। রোববার রাতেও দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং মারধরও করছে। পরে আমার বোনকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে তৌহিদ। আমি মামলা করবো। আইনের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তৌহিদ বেপারীর সাথে কথা বলতে তাদের বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া পরিবারের কোন লোকজনও পাওয়া যায়নি।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply