সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নেতাকর্মীদের স্বভাব-চরিত্র পরিবর্তণ হলে স্থানীয় নির্বাচনেও দেশের জনগন ভোটের মাধ্যমে জবাব দিবে- প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ঈদের আগেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড পাবো: রাজৈরে মতবিনিময় সভায়  জাহান্দার আলী মিয়া এমপি  মুকসুদপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ড্রেজার মেশিন ধ্বংস মাদারীপুরে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু, অভিযুক্ত স্বামী আটক মুকসুদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্র নিহত মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত-১,আহত-১০ মুকসুদপুরে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মোবাইল কোর্ট ১৯ মাস পর মুকসুদপুর  উপজেলা আ. লীগ কার্যালয়ে উড়ল  পতাকা মাদারীপুরে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়ালো দুইপক্ষ, শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ, আহত ২ মুকসুদপুরে নিখোঁজের ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি দুই কিশোরী

মুকসুদপুরে ভাইরাস (পোকা) বিক্রি করে চলে যাদের সংসার

টেকেরহাট নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৪ Time View

গোপালগঞ্জে মুকসুদপুরে রেইনট্রি গাছের ভাইরাস পোকা বিক্রি করে চলছে শত শত পরিবারে সংসার। এ ভাইরাস বিক্রি লাভবান হওয়ায় নিজ পেশা ছেড়ে ভাইরাস পোকা বিক্রি পেশায় যুক্ত হচ্ছেন অনেকে।
উপজেলার ভারড়াশুর, মোচনা,পশারগাতী ইউনিয়নে এই রেইনট্রি গাছের ভাইরাস পোকার সংগ্রহ চলছে। আবার অনেকে রাস্তার পাশে গাছের বাগান ক্রয় করে রেখেছেন ভাইরাস সংগ্রহের জন্য। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই ভাইরাস পোকা সংগ্রহের কাজ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাবড়াশুর ইউনিয়নের কয়েকজন যুবক ইঞ্জিন চালিত ভ্যানগাড়ী সাথে নিয়ে উজানী থেকে আসা রাজন মিয়া রেইনট্রি গাছের ভাইরাস পোকার ডাল সংগ্রহ করে বাড়ী ফিরছে। এ পেশার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন উজানী ভাবড়াশুর মোচনা ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক যুবক। প্রথমে বাড়ী থেকে বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম গুলোতো গিয়ে রেইনট্রি কাছের সাদা বর্ণের ভেতর লালচে রঙের ভাইরাসযুক্ত ডালের সন্ধান করেন। পরে যে গাছের ডালগুলোতে সংক্রমিত বেশী, সেই ডাল গুলো দর-দামের মাধ্যমে গাছের মালিকের সাথে দাম ঠিক করে নেয়া হয়। পরে গাছ থেকে ডাল কেটে নারী শ্রমিকদের দিয়ে ভাইরাস ছাড়ানো হয়। ভাইরাস বিক্রির উপযোগী হলে বস্তায় করে স্থানীয় উপজেলা কলিগ্রাম ও গোপালগঞ্জ সদরে সহ কয়েকটি বাজারের আড়তে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করে। ভাইরাস বিক্রির ব্যবসার সাথে জড়িত হাসান, কামালের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, উপজেলা বিভিন্ন গ্রাম থেকে শিশু (রেইনট্রি) গাছ দেখে আসি। যেসব গাছে ভাইরাস হয়েছে সেগুলো থেকে তিন থেকে চার জন শ্রমিক নিয়ে সংক্রমিত ডাল কেটে ভ্যানে করে বাড়িতে এনে ভাইরাস ছাড়িয়ে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাই। কয়েক বছর আগে এই ভাইরাসের দাম বেশি ছিলো। কিন্তু এখন দাম কমে গেছে। ভাইরাস ক্রয়ের আড়ৎদার গোপালগঞ্জ সদরের সোহেল শেখ মুঠোফোনে জানান, গাছ থেকে সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনে আমরা অন্য জায়গায় বিক্রি করি। এগুলো ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতিকেজি দরে কিনে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করি। এই ভাইরাস কী কাজে ব্যবহার হয় এমন প্রশ্নে আড়ৎদার সোহেল শেখ জানায়, আমরাও সঠিক জানি না। তবে লোকমুখে শুনেছি এটা দিয়ে আসবাবপত্রে রং করার কাজে উন্নতমানের আঠা বা গালা তৈরি করা হয়ে থাকে। ভাবড়াশুর গ্রামের সেন্টু মৃধাসহ গ্রামের কয়েকজন জানান, দিন দিন এই ভাইরাস সংগ্রহের কাজে লোক ঝুঁকছে বেশি। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে-গোটা উপজেলার শতশত নারী, পুরুষ এই পেশায় জড়িত হয়ে পড়েছে। বেকার যুবকরাও এ ভাইরাসের ব্যবসা শুরু করেছে। উপজেলার গায়েন্দা বাজারে অস্থায়ী একটি দোকান ভাড়া করে কয়েক জন পুরুষ ছুরির সাহায্যে ডাল থেকে ভাইরাস পোকা আলাদা করছে। তারা বলেন-এইগুলো আলাদা করে পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। এভাবে এক সপ্তাহ পর পর বিক্রি করে থাকি। প্রথমে এই ভাইরাস পোকার দাম ছিল ১০০০ টাকা কেজি। এখন দাম কমে গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ বাহাউদ্দীন সেক সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, মানুষেরা যেটিকে ভাইরাস বলছে সেটি মূলত ভাইরাস নয় এটি হলো গাছের লাক্ষা পোকা এটি বিভিন্ন গাছে হয়ে থাকে বর্তমানে রেইনট্রি গাছে বেশি দেখা যায়, এটি গাছ থেকে ছাড়িয়ে অনেকে বিক্রি করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category