সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। আহত ১০জন মাদারীপুরে পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরণ, ঘর বিব্ধস্ত, তদন্তে পুলিশ রাজৈরে পানিতে পড়ে ৫ বছর বয়সী দুই জমজ বোনের মৃত্যু  মাদারীপুরে হাসপাতালের ভেতর যুবককে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত আটক মাদারীপুরের শিবচরে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, এক বছরের শিশুকে ফেলা দেয়া হয় নদীতে, প্রধান আসামি গ্রেফতার  রাজৈরে পুরুষদের বিরুদ্ধে এক নারীর একাধিক মিথ্যা মামলা, অতিষ্ঠ হয়ে ৩ পরিবার ভারতে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর মহিলা কলেজের অফিস সহকারী ইয়াবাসেবনকালে গণধোলাইয়ের শিকার, ভিডিও ভাইরাল গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩, আহত ২০ মুকসুদপুরে কুমার নদীতে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার মাদারীপুরের শিবচরে পানিতে ডুবে দুই কিশোরীর মৃত্যু, আহত এক

মাদারীপুরে গৃহবধুর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি

টেকেরহাট নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০৫ Time View
মাদারীপুরে গৃহবধু ফাতেমা আক্তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিনদিন পেরিুয়ে গেলেও মামলা না হওয়ায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
জানা যায়, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের মোবারক গৌড়ার মেয়ে ফাতেমা আক্তারের সাথে ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ে একই ইউনিয়নের সাবেক কালিকাপুর গ্রামের মৃত হাকিম গাছীর ছেলে রাহাত গাছীর (২৯)। বিয়ের সময় নগদ ৪ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র দেয় হয়। এরপরও বিভিন্ন সময় শ^শুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবীতে ফাতেমার ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু করে। যৌতুকের টাকা না দেয়ায় ফাতেমাকে চাপ প্রয়োগ করেন তারা। ফাতেমার বাবার বাড়ির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীকে সৌদিআরব পাঠিয়ে দেয় রাহাতের বড়ভাই রাসেল। এরপর আবারো যৌতুক দাবী করে ফাতেমার ভাসুর রাসেলও তার পরিবারের সদস্যরা। এই যৌতুকের টাকা না দেয়ায় শেষমেষ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ফাতেমার বাবারবাড়ি গিয়ে মারধর করে হুমকি দেয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি আদালতের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা গৃহবধু। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাহাত ও রাসেলসহ ৫ জনের যৌতুক আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এই খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় শহরের পানিছত্র এলাকা থেকে নিজবাড়িতে যাওয়ার পথে উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে শ^শুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ফাতেমার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে আহত অবস্থায় নির্যাতিতাকে ভর্তি করা হয় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর মডেল থানায় রাসেল ও তার লোকজনের নামে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত থানায় হয়নি মামলা রেকর্ড। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অসহায় গৃহবধু ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এদিকে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রাজধানী ঢাকায় মিটিং-এ আছেন বলে জানান। কথা বলতে বলেন পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মহসিন-এর সাথে। তাকেও একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমি আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেছি, সেই জেরে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে শ^শুরবাড়ির লোকজন। আমি ন্যায় বিচার চাই। কিন্তু থানা পুলিশ এখনো মামলা নিচ্ছে না। আমি আবারো হামলার ভয়ে আছি।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, হামলার খবর পেয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে দেখতে যায় সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে মেয়েটির পক্ষ থেকে। দেরিতে অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category