নিহতরা হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ি এলাকার জাকির তালুকদারের স্ত্রী তাসলিমা বেগম(৩৫), একই এলাকার আব্বাস তালুকদারের স্ত্রী কোহিনুর বেগম(৪৫) ও ডাসার উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার রহুল হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার। তারা সকলেই ভ্যান যাত্রী ছিলেন।
এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ভ্যানচালক রনি খান মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ঘটমাঝি ইউনিয়নের তাতিবাড়ি এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ব্যাটারি চালিত অটোভ্যান যোগে মস্তফাপুর থেকে ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় যাচ্ছিল তালিমা, কোহিনুর ও নয়ন। এসময় তাদের সাথে এক শিশুও ছিল। পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের তাতিবাড়ি এলাকায় আসলে পিছন দিক থেকে আসা বরিশালগামী বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যান তাদের বহনকারী ভ্যানটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ভ্যানিটি গুড়িয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থালেই কোহিনুর ও নয়ন নিহত হয়। এসময় তাসলিমা ও রনিকে আশংকাজনক অবস্থায় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাসলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। একই সাথে অক্ষত অবস্থায় তাদের সাথে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে তাতিবাড়ি এলাকার ঘটনাস্থলে টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিক্ষুদ্ধরা। এতে প্রায় দুই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। একপর্যায়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে ও থানা পুলিশের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মাদারীপুরের মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রশিদ জানান, কাভার্ডভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলে দুইজন ও হাসপাতালে একজন নিহত হয়েছেন। তারা ভ্যানের যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় ভ্যানচালক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কাভার্ডভ্যানটি পালিয়ে যাওয়ায় এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুতই ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
Leave a Reply