মাদারীপুরের রাজৈরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট শাখার ডিএসআর সুস্ময় চক্রবর্তী (২৫) কাছ থেকে নগদ ২৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার কামালদি ব্রিজ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সুস্ময় বর্তমানে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। সে রাজৈর উপজেলার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাষ্টার এজেন্ট এর টেকেরহাটস্থ প্রধান অফিসের একজন কর্মী। সে উপজেলার ৬টি শাখা থেকে নিয়মিতভাবে টাকা আনা নেয়া করে থাকে। ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশের চারটি টিম মাঠে কাজ করছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সুস্ময় চক্রবর্তী টেকেরহাট ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাস্টার এজেন্ট শাখায় ডিএসআর (ডেলিভারী সেলস অফিসার) হিসেবে কর্মরত। অফিসের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সুস্ময় চক্রবর্তী উপজেলার পাইকপাড়াা ইউনিয়নের ফুলতলা শাখা থেকে ৭ লাখ, আমগ্রাম বাজার শাখা থেকে ৭ লাখ ও টেকেরহাট বন্দরের আজিজ মার্কেটে মাস্টার এজেন্ট শাখা থেকে ১০ লাখ টাকাসহ মো ২৪ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে করে রহস্যময় কারনে কোন নিরাপত্তা না নিয়ে ১০ কিলোমিটার দুরে আরেকটি শাখা বাজিতপুর মজুমদার বাজার সাব এজেন্ট শাখার সুকদেব ঘোষ এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার কামালদি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত সুস্ময়ের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ঘিরে ধরে। ভুক্তভোগী সুস্ময় জানান, এ মুহুর্তে দুর্বৃত্তরা তাকে একটি ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে তার কাছে থাকা ২৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে দ্রুত পালিয়ে যায় ।
খবর পেয়ে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এবং দুবৃত্তদের চিহ্নিত করতে সিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা নিরিক্ষাসহ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক টেকেরহাট শাখার ম্যানেজার মনতোশ সরকার জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।
তবে সকলের মন্তব্য-বিনা সিকিউরিটিতে ব্যাংকের বিপুল টাকা নিজস্ব একজন কর্মী দিরে দুরে পাঠানো, ঘটনার সময়ের প্রাসঙ্গিকতা ও অসলগ্ন কথাবার্তা নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘তার নাকের সামনে শয়তানের নিঃশ্বাস ধরায় ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়ে টাকার ব্যাগটি তাদের হাতে দিয়ে দেয়। ছেলেটি ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়েছিল, কাউকে কিছু বলার মতো জ্ঞানও ছিল না তার। এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছে এবং তদন্তে চারটি টিম মাঠ কাজ করছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের হয়েছে।
Leave a Reply