পৌরসভায় বসবাস। অথচ, পারাপার ডিঙ্গি নৌকায়। নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত মাদারীপুর পৌরসভার এক গ্রামের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর আবেদন জানালেও নজরে আসছে না কর্তৃপক্ষের। এমন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুমার নদ পারি দিতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নৌপথে যাতায়াতকারীরা। অবশ্য, গুরুত্ব বিবেচনায় পরবর্তী প্রকল্পে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায় এলজিইডি।

মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে শহরের আসতে কাঠের তৈরি ডিঙ্গি নৌকাই একমাত্র ভরসা। শিশু কিংবা বৃদ্ধ। সব বয়সের মানুষকে পারাপার হতে হচ্ছে ডিঙ্গি নৌকায়। অসুস্থ রোগীদেরও একমাত্র ভরসা কাঠের তৈরি নৌযান। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ, আর কষ্ট বাড়ে কয়েকগুণ। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমার নদ পাড়ি দিতে হয় নৌকায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও পড়েন বিড়ম্বনায় ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্প নগরীর পাশে একটি সেতু নির্মাণের আবেদন জানালেও নজরে আসছে না কর্তৃপক্ষের। এতে রোদ-বৃষ্টি আর ঝড় মাথায় নিয়েই পারাপার হতে হয় সবাইকে।

নতুন মাদারীপুর গ্রামের বাসিন্দারা নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে চান সড়ক পথে যাতায়াত করতে। অথচ, সেতুর অভাবে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব দিকে পিছিয়ে আছেন তারা। বিকল্প পথে দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে যাতায়াত করলেও দীর্ঘদিনেও সেতুর স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় বাড়ছে অসন্তোষ, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
সূত্র বলছে, একজন মাঝির মাধ্যমে প্রতিদিন ছোট্ট এই নৌকায় পারাপার হয় অন্তত ৮০০-১০০০ মানুষ। মাদারীপুর পৌরসভার আওতাভুক্ত নতুন মাদারীপুর গ্রামের তিন হাজার মানুষের বসবাস। কবে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে এখানকার বাসিন্দারা সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজা ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই খেয়া পারাপারের জন্য ৩০-৪০ মিনিট সময় লেগে যায়। ওপারে নৌকা থাকলে আরও বেশি দেরি হয়। বর্ষার দিনেও ভোগান্তির শেষ নেই। তাই জরুরিভিত্তিতে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা রওশন আরা বেগম বলেন, রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলে দুর্ভোগ বাড়ে কয়েকগুন। রাতের বেলা চলাচল করতেও কষ্ট হয়। আমরা এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর আবেদন করে আসছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করছে না। যদি শিগগিরই এই সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি না পাই, তাহলে আন্দোলনে নামবো।
এলজিইডির মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন মাদারীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সুবিধার্থে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপাতত চলমান প্রকল্পে এটি অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব নয়।
Leave a Reply