মাদারীপুরে ভুয়াদাতা বানিয়ে জালিয়াতি করে .৪৭ শতাংশ জমি লিখে নেয়ার ঘটনায় ৫ জনকে ৫ বছর করে কারাদন্ড দেন আদালত। পরে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি আপিল করলে মামলা এখনো চলমান। কিন্তু মামলা থেকে রেহাই পেতে বাদীপক্ষকে একের পর এক হয়রানীমূলক মামলা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ১৯৯০ সালের ১৬ অক্টোবর জমির মালিক নুর জাহান বেগমের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশের কাছ থেকে ইতালি প্রবাসী জসিম মোল্লা সদর উপজেলার পেয়ারপুর মৌজার এসএ ৯০৬নং খতিয়ানে ও ৩৮৮৬নং দাগে .২৩ শতাংশ জমি ও একই খতিয়ানে ৩৮৯৩নং দাগে জমি .২৪ শতাংশসহ মোট .৪৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু নুর জাহান বেগম মারা যাবার ৪ বছর পর ১৯৯৪ সালের ২ নভেম্বর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অন্য নারীকে হাজির করে ৪১৬৪ নং দলিলে জমি বিক্রয় করে প্রতারক চক্র। পরে জসিম মিয়ার শ্বশুর শহরের বাগেরপাড় এলাকার মৃত রুইজউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে দিদার হাওলাদার বাদী হয়ে ৭জনের নামে অভিযোগ দিলে ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট সদর মডেল থানায় প্রতারনার মামলা রেকর্ড হয়। এরপর দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমান উপস্থাপন শেষে তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখসহ ৫ জনকে ৫ বছর করে কারাদন্ড দেন আদালত। সাজা হওয়ার পরে আসামিরা আপিল করেন, পরে বাদীপক্ষ লিভ টু আপিল করলে মামলা এখনো চলমান। বিষয়টি থেকে বাঁচার জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদী আত্মীয়, জসিমের বড়ভাই ইদ্রিস মোল্লা ও তার পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল জলিল মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খানের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। তার ক্ষমতায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিজের অবস্থান পাল্টানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি আব্দুল জলিলের একটি পরিত্যক্ত ঘরে আগুন লাগে। শর্ট সার্কিটের লাগা আগুনের ঘটনায় জসিমের পরিবারের নামেও মামলা দেয়।
অভিযুক্ত আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখ বলেন, ‘আমিসহ পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যে মামলা করেছে। আমার অনুপস্থিতে মামলা রায় হয়। পরে আপলি করলে বিজ্ঞ আদালত খালাস দেন। বর্তমানে লিভ টু আপিলের পর আবার মামলাটি এখনো চলমান। আমি কোন অপরাধ না করেও মামলায় জড়িয়েছি। আমি এর বিচার চাই। এছাড়া আমি কারো নামে মিথ্যা মামলা দেয়নি। বরং ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় আমি মামলা দিয়েছি।’
ভুক্তভোগী ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কিভাবে এতো দাপট দেখায়। আমাদের নামে তিনটি মামলা দিয়েছে। সবগুলোই মিথ্যা প্রমানিত। দুলালের কারনে এলাকার মানুষও অসহায়। এরপর সম্প্রতি শর্টসার্কিটের আগুনে তার একটি পরিত্যক্ত টিনশেট ঘর পুড়ে যায়। পাশে থাকা আমার ভবনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কিন্তু আমার ভাইয়ের শ্বশুরের দায়ের করা মামলায় সাজা হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ঘর পোড়ানো মামলা দেয় আমাদের নামে। আমি এই ঘটনার তদন্তপূর্বক সঠিক বিচার চাই।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কালাম আজাদ বলেন, ‘পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর মামলার ঘটনায় পুলিশ সবগুলো বিষয়ই গুরুত্ব সহকারে দেখছে। কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করতে দেয়া হবে না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
Leave a Reply