মাদারীপুরে পরিবহন খরচ বাড়ায় সব ধরনের শাকসবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। অথচ, এরইমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। কিন্তু দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতা।

শুক্রবার সকালে শহরের পুরাণ বাজার ও টেকেরহাট শিমুল তলা এলাকার প্রধান পাইকারি কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুইপাশে সারি সারি করে গড়ে উঠা সবজির দোকানে ক্রেতাদের ভীড়। দুরদুরন্তের পাইকাররা ছুটে এসেছেন কাঁচামাল কিনতে। কিন্তু দাম বাড়তিতে ক্ষুব্ধ তারা। যদিও বিক্রেতা ও আড়তদাররা বলছেন, একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কিছুটা বেড়েছে দাম।
জানা যায়, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রাজবাড়িসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে বাঁধাকপি, ফুল কপি, সীম, গাজর, পেঁপেঁসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি মাদারীপুরের পাইকারী আড়তে নিয়ে আসেন আড়ৎদাররা। পরে তারা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। সেখান থেকে কাঁচামাল কিনে স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করেন খুরচরা বিক্রেতারা। এতে কয়েক হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছায় বাড়তি দামে। তবে, জ¦ালানী খরচ কমলে এই পণ্যের দাম কমার কথা জানিয়েছে বিক্রেতারা।
আড়ৎদার সূত্র জানিয়েছে, প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা, আদা ১৭০ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, বাধা কপি ৩৫-৪০ টাকা, ফুল কপি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১৭-১৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে আলু, পেঁপেঁর কেজি ১০-১২ টাকা, পটল ৩৬ টাকা, বেগুন ৭৫ টাকা কেজি। আর কাঁচামরিচ ৮৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘জেলার সব পাইকারি বাজারেও শাক সবজির বাড়তি দাম। শুধু দাম বেড়েই যায়, কিন্তু কখনই কমে না। এটি দেখার যেন কেউই নেই। কি করবো, আমাদের তোন কিনে খেতেই হবে। আমরা ক্রেতারা অসহায়।’
ব্যবসায়ী ইরফান আহম্মেদ রেজা বলেন, ‘প্রতিদিনই বাজারে শাক সবজির দাম বেড়েই চলছে। পাইকারি কিনতে গেলে দাম বেশি, বিক্রি করতে গেলে ক্রেতাদের সাথে প্রায়ই ঝগড়া করতে হয়। আমরা চাই বাজার স্থিতিশীল থাকুক। কিন্তু তাও কখনই হয় না।’
আড়ৎদার বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়েছে, তাই কাঁচামালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।’
আবু তালহা বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী বাবুল মাতুব্বর বলেন, ‘একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে হঠাৎ জ¦ালানী তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কিছুটা বেড়েছে দাম। আমরা সাধ্যমতো দাম কম রাখার চেষ্টা করছি।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মাদারীপুরের সহকারি পরিচালক সুচন্দন মন্ডল জানান, ‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কোন পণ্যের দাম বেশি রাখে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রনে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে প্রতিনিয়তই মনিটরিং করা হচ্ছে।’
Leave a Reply